|আমাদের কথাযোগাযোগ
LUনভেম্বরের বিশেষ সংখ্যা72 বিশদ লেখাlinkup.beerজনস্বার্থ • দৈনন্দিন জ্ঞান • ভারতবাজেটের হিসাবনিজের অঙ্কে পরিকল্পনা করুন।
বিশেষ নজরঅর্থ ও সংসারডিজিটাল জীবনশিক্ষা ও কাজপড়ার তালিকা

পুরো পত্রিকায় খুঁজুন

স্বাস্থ্য ও যত্ন

বদলে যাওয়া শিফটের মধ্যেও ঘুমের সময় রক্ষা করুন

রাত বা বদলানো শিফট শরীরের ঘুমের সময় ও পরিবারের কাজের সঙ্গে সংঘাত তৈরি করে। বাস্তব ঘুমের সুযোগ, দিনের ঘর, ছোট ঘুম এবং বাড়ি ফেরার পথ পরিকল্পনায় সাহায্য করে। দীর্ঘ তন্দ্রাকে শুধু অভ্যাস ধরে না নিয়ে কখন চিকিৎসার মূল্যায়ন দরকার সেটিও জানুন।

অন্য ভাষায় পড়ুন
সূর্যাস্তের সময় একত্রিত মানুষ
বিষয় বোঝানোর জন্য ব্যবহৃত ছবি · Unsplash · কৃতজ্ঞতা ও স্বীকৃতি
এই লেখায়
  1. শুধু চেষ্টা করেই কেন ক্লান্তি মেটে না
  2. ঘুমের আগে পুরো দিনের মানচিত্র করুন
  3. দিনের ঘুম পরিবারের ভাগ করা ব্যবস্থা
  4. পরের ঘুম ভেবে খাবার ও ক্যাফেইন
  5. ছোট ঘুমের পরে জেগে ওঠার সময় রাখুন
  6. তন্দ্রার আগেই ফেরার ব্যবস্থা ঠিক করুন
  7. ছুটিতে বিশ্রাম ও কিছু নিয়ম বজায় রাখুন
  8. কখন ঘুমের মূল্যায়ন দরকার
  9. সূত্র ও আরও পড়ার ঠিকানা

শুধু চেষ্টা করেই কেন ক্লান্তি মেটে না

ঘুম কতক্ষণ জেগে আছেন এবং শরীরের দৈনিক সময়ব্যবস্থা দুটিতে প্রভাবিত হয়। রাতে শরীর ঘুম চাইলে কাজে সতর্ক থাকতে হয়। দিনের আলো ও ঘরের শব্দ পরে ঘুম কঠিন করে। এটি শুধু শৃঙ্খলার অভাব নয়। ১৮–৬০ বছরের অধিকাংশ প্রাপ্তবয়স্কের অন্তত সাত ঘণ্টা ঘুম দরকার; সময়ের সঙ্গে মানও গুরুত্বপূর্ণ। বিছানায় থাকা ও ঘুম এক নয়।

বাড়িতে নয় ঘণ্টা থাকলে নয় ঘণ্টা ঘুমের সুযোগ হয় না। যাতায়াত, খাবার ও পরের প্রস্তুতিতে সময় যায়। পণ্য কেনার আগে এই অঙ্ক দেখুন। কাজদাতার সময়সূচি, চাপ ও বিরতিতে ভূমিকা আছে। অনিরাপদ তালিকা কর্মী নিজের অভ্যাসে পুরো ঠিক করতে পারেন না। বাস্তব বাধা লিখে সাহায্য চাওয়া পরিকল্পনার অংশ। শুধু ইচ্ছাশক্তি বাড়ানোর পরামর্শ যথেষ্ট নয়।

এই অংশের সূত্র: [2], [1]

ঘুমের আগে পুরো দিনের মানচিত্র করুন

শিফট, যাত্রা, খাবার, অপরিহার্য পরিচর্যা ও ঘুম এক পাতায় লিখুন। কোন কাজ ভাগ বা সরানো যায় দেখুন। পরিকল্পনার উদাহরণে কাজ সকাল ছটায় শেষ ও এক ঘণ্টা যাত্রা হলে আটটায় ঘুম শুরু সাড়ে ছটার চেয়ে বাস্তব হতে পারে। আটটা থেকে তিনটে সাত ঘণ্টা বিছানায় দেয়, নিশ্চিত সাত ঘণ্টা ঘুম নয়। ঘুম আসার সময়ও হিসাব করুন।

বারবার বাধা পড়লে ব্যবস্থা বদলাতে হবে। বাজার অন্যদিন বা স্কুল থেকে আনা আত্মীয় করবেন কি না জিজ্ঞাসা করুন। ঘুরতে থাকা শিফটে তালিকা আগে চান এবং বিশ্রামের ফাঁক নিয়ে কথা বলুন। স্থায়ী রাতের কর্মীর অভ্যাস কয়েকদিন অন্তর বদলানো কাজে কপি করবেন না। নিজের যাত্রা ও পরিবারের সুযোগ অনুযায়ী সময় রক্ষা করতে হবে। কাগজের পরিকল্পনা বাস্তবে চলছে কি না দেখুন।

এই অংশের সূত্র: [2]

দিনের ঘুম পরিবারের ভাগ করা ব্যবস্থা

অন্ধকার, শান্ত ও আরামদায়ক স্থান রাখুন। পর্দা, চোখের আবরণ বা উপযুক্ত কানে লাগানোর জিনিস নিরাপদে সাহায্য করতে পারে। বাতাস ও গরম দেখুন; অন্ধকার বদ্ধ কিন্তু বিপজ্জনক গরম ঘর ভালো নয়। ফোনে অপ্রয়োজনীয় বার্তা বন্ধ রেখে দরকারি যোগাযোগের পথ রাখুন। জরুরি কল কীভাবে আসবে পরিবারের সঙ্গে ঠিক করুন, সব যোগাযোগ নির্বিচারে বন্ধ নয়।

ঘুমের সময় বোঝান এবং শব্দ বা কাজ সরানোর সিদ্ধান্ত নিন। দরজায় নোট বাধা কমায়, তবে জরুরি ব্যবস্থা চাই। একমাত্র পরিচর্যাকারী কানে আবরণ দিয়ে শিশুকে শুনতে না পেলে চলবে না। অন্য জেগে থাকা বড়র দায়িত্ব রাখুন। ঘুমন্ত অভিভাবককে প্রতিটি অনুরোধে পাওয়া যাবে ভাবলে সময় সুরক্ষিত থাকে না। দায়িত্ব স্পষ্ট ভাগ করুন এবং বদলি মানুষও ঠিক রাখুন।

এই অংশের সূত্র: [1]

পরের ঘুম ভেবে খাবার ও ক্যাফেইন

ক্যাফেইন সাময়িক সতর্কতা বাড়ায়, পরের ঘুমও পিছিয়ে দিতে পারে। চা, কফি, কোলা ও এনার্জি পণ্য একসঙ্গে ধরুন। নিজের সংবেদনশীলতা দেখুন। ঘুমের কাছাকাছি বারবার নেওয়ার উপর নির্ভর নয়। কর্মক্ষমতার পণ্যে ধারণার বেশি ক্যাফেইন থাকতে পারে; লেবেল পড়ুন। একটি পাত্রকে একটি সাধারণ কাপ ভাববেন না। কোন সময় কী নিলেন নথিতে রাখা যায়।

শিফট ও হজমের উপযুক্ত খাবার ঠিক করুন। শোওয়ার আগে খুব বড় খাবার অস্বস্তি দিতে পারে। বাড়ি ফিরে ক্ষুধায় আরও দেরি না করতে খাবার ও জলের ব্যবস্থা রাখুন। অ্যালকোহল নির্ভরযোগ্য ঘুমের সাহায্য নয়, ঘুম ভাঙতেও পারে। তন্দ্রার ওষুধের সঙ্গে বাড়তি বিপদ। ঘুম আনার জন্য নিজে পানীয় ও বড়ি মেশাবেন না। খাবার ও বিশ্রামের সময় দুটিই বাস্তব সূচিতে ধরুন।

এই অংশের সূত্র: [1]

ছোট ঘুমের পরে জেগে ওঠার সময় রাখুন

পরিকল্পিত ছোট ঘুম সতর্কতা বাড়াতে পারে, অনুমোদিত কাজের বিরতিতেও, কিন্তু মূল ঘুমের বিকল্প নয়। দেখাশোনা ও উপযুক্ত স্থান ঠিক করুন। ওঠার পরে ঝিমুনি কাটার সময় দিন। অ্যালার্ম থেকে সরাসরি গাড়ি, যন্ত্র বা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে যাবেন না। পরিকল্পনায় ঘুমের সঙ্গে জেগে স্বাভাবিক হওয়ার সময়ও থাকতে হবে। কাজের নিরাপত্তার দায়িত্ব এড়ানো যাবে না।

কার জন্য মানাবে তা মানুষ ও সূচির উপর নির্ভর করে। পরের শিফটে সাহায্য নাকি মূল ঘুম কঠিন হচ্ছে লিখুন। একদিন ভালো হওয়া অনির্দিষ্ট দীর্ঘ কাজ নেওয়ার অনুমতি নয়। কর্মক্ষেত্রের পরিকল্পনায় ক্লান্তি জানানো ও নিরাপদ কাজ ভাগও থাকুক। শুধু একটু ঘুমিয়ে যেকোনো অবস্থায় চালিয়ে যেতে বলা যথেষ্ট ব্যবস্থা নয়। বাস্তব ফল খারাপ হলে পরিবর্তন আলোচনা করুন।

এই অংশের সূত্র: [3]

তন্দ্রার আগেই ফেরার ব্যবস্থা ঠিক করুন

চোখ ভারী, বারবার হাই, মন সরে যাওয়া, মোড় বাদ বা পথের অংশ মনে না থাকা বিপদের লক্ষণ। তন্দ্রায় চালানো শুরু বা চালিয়ে যাবেন না। অন্য পরিবহণ, নিরাপদ বিশ্রাম বা সজাগ মানুষের সাহায্য নিন। খোলা জানালা, জোর গান বা শক্ত পানীয় বিপজ্জনক তন্দ্রার নির্ভরযোগ্য সমাধান নয়। কাছেই বাড়ি বলে ঝুঁকি উপেক্ষা করবেন না।

বিকল্প বাস্তব হোক: কাকে ফোন, ওই সময়ে কী যান চলে এবং কোথায় নিরাপদে অপেক্ষা? ভোরে কাজ শেষ হলে শুরুর আগেই উত্তর রাখুন। অল্পের জন্য দুর্ঘটনা এড়ানোর ঘটনাও কাজদাতাকে জানান। নিরাপদ যাত্রা ক্লান্তি ব্যবস্থার অংশ, ব্যক্তিগত সহ্যশক্তির পরীক্ষা নয়। খরচ বা পরিবহণের অভাব থাকলে সূচির আলোচনায় বলুন। তখনই সমাধান খোঁজা সহজ, ঘুমের চাপে পরে নয়।

এই অংশের সূত্র: [2]

ছুটিতে বিশ্রাম ও কিছু নিয়ম বজায় রাখুন

ছুটিতে সপ্তাহের বাকি পারিবারিক কাজ জমে। প্রতিটি ঘণ্টা ভরার বদলে অগ্রাধিকার বাছুন। পরের শিফট অনুযায়ী ঘুম আলোচনা করুন; সবার জন্য এক সেরা ব্যবস্থা নেই। বারবার বড় পরিবর্তন কঠিন হতে পারে। বদল সামলানো দীর্ঘদিন অসম্ভব হলে পেশাগত বা চিকিৎসার পরামর্শ নিন। বিশ্রামের সমস্যাকে স্বাভাবিক বলে চিরকাল মেনে নেওয়া দরকার নেই।

একসঙ্গে খাবার বা নির্দিষ্ট ফোনের মতো কিছু পরিচিত বিষয় রাখুন, বিশ্রামও রক্ষা করুন। রাতের পরে ঘুম স্বাস্থ্যগত দরকার, পরিবারে যোগ না দেওয়ার জেদ নয়। এক দীর্ঘ ছুটির ঘুমে কম ঘুমের সব প্রভাব মুছে যায় এমন কথা দেবেন না। কয়েকদিনের আসল ধারা দেখুন। শুধু সেরা রাত দিয়ে সামগ্রিক বিশ্রাম বিচার নয়। বারবার বাধা ও ক্লান্তির সময়ও লিখুন।

এই অংশের সূত্র: [1], [2]

কখন ঘুমের মূল্যায়ন দরকার

জোর নাকডাকা, শ্বাস থামতে দেখা, ঘুমে দম বন্ধ বা দীর্ঘ দিনের তন্দ্রায় চিকিৎসা মূল্যায়ন নিন। শিফটের সমস্যার পাশেও এগুলি থাকতে পারে; সব কাজের দোষ নয়। কাজ, ঘুম, ছোট ঘুম, ক্যাফেইন, ওষুধ ও লক্ষণের সংক্ষিপ্ত নথি নিন। সম্মতি থাকলে সঙ্গীর দেখা তথ্য সাহায্য করে। কেবল নিজের ঘুম মনে পড়ার উপর সব নির্ভর না করলেও চলে।

তন্দ্রা আনে এমন ওষুধ ও চালনার নিরাপত্তা জিজ্ঞাসা করুন। অন্য কর্মীকে দেখে ঘুমের বড়ি বা মেলাটোনিন শুরু নয়; সময়, মিথস্ক্রিয়া ও ব্যক্তিগত অবস্থা জরুরি। বাস্তব সুযোগেও সমস্যা চললে সাহায্য নিন। শুধু বিছানার সময় বাড়ালে সতেজ না হওয়ার কারণ জানা যায় না। চিকিৎসা ও কর্মক্ষেত্রের বদল দুটিই লাগতে পারে। পরের পরামর্শের সময় ও দায়িত্ব স্পষ্ট রাখুন।

এই অংশের সূত্র: [4], [1]

পাঠকের প্রশ্ন

কফি দিয়ে কম ঘুম পূরণ হবে?

না। ক্যাফেইন সাময়িক সতর্কতা দিতে পারে, পর্যাপ্ত ঘুমের পুনরুদ্ধার দেয় না। পরের ঘুমের কাছে বারবার নিলে বিশ্রাম কঠিন হয়। শুধু পানীয় নয়, ঘুমের সুযোগ, কাজ ও যাত্রা দেখুন। চালানোর মতো সজাগ না হলে অন্য ব্যবস্থা করুন। কফি খাওয়া সক্ষমতার প্রমাণ নয় এবং পথের বিপদ মুছে দেয় না। নিরাপদে অপেক্ষার জায়গাও আগে রাখুন।

ছোট ঘুম সবসময় সাহায্য করে?

সবসময় নয়। পরিকল্পিত ছোট ঘুমে সতর্কতা বাড়তে পারে, তবে সময়, দৈর্ঘ্য ও পরের ঘুম গুরুত্বপূর্ণ। ওঠার ঝিমুনি কাটিয়ে নিরাপত্তার কাজ করুন। সামলানো যায় এমন ব্যবস্থা চেষ্টা করে ফল লিখুন। দীর্ঘদিনের অপর্যাপ্ত সূচি এতে নিরাপদ হয় না। বিপজ্জনক তন্দ্রায় কাজ চালানোর একমাত্র যুক্তি হিসেবে ছোট ঘুম ব্যবহার করবেন না।

রাতের পরে পরিবার জাগাবে কি?

আগে সুরক্ষিত ঘুম ও সত্যিকারের জরুরি ব্যতিক্রম ঠিক করুন। সাধারণ কাজ ভাগ বা সরানো যায়; শিশুর জেগে থাকা দায়িত্ববান বড় দরকার। দিনের ঘুমকে আসল ঘুম ভাবুন, অবসর নয়। যথেষ্ট বিশ্রাম না মিললে পরিবার ও কাজদাতার সঙ্গে সহায়তা আলোচনা করুন। শুধু আরও অ্যালার্ম নয়, দায়িত্ব স্পষ্ট ভাগ করতে হবে যাতে ঘুমের সময় সত্যিই অক্ষত থাকে।

সূত্র ও আরও পড়ার ঠিকানা

  1. CDC: About sleep ↗
  2. NIOSH: How shift work and long work hours increase risks ↗
  3. NIOSH: Naps at work ↗
  4. NHS: Sleep apnoea ↗

এই সংখ্যার জন্য সূত্র যাচাই করা হয়েছে। প্রকল্পের নিয়ম, পণ্যের শর্ত ও স্থানীয় প্রয়োজন বদলাতে পারে; সিদ্ধান্তের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে মিলিয়ে নিন।

NR
লেখক

নন্দিনী রাও

সাধারণ স্বাস্থ্যজ্ঞান, যত্নের অভ্যাস এবং চিকিৎসককে করার মতো প্রশ্ন। এই লেখাগুলি রোগনির্ণয় বা চিকিৎসা নির্ধারণ করে না।

সম্পাদকীয় ছদ্মনাম · আরও পড়ুন →