|আমাদের কথাযোগাযোগ
LUনভেম্বরের বিশেষ সংখ্যা72 বিশদ লেখাlinkup.beerজনস্বার্থ • দৈনন্দিন জ্ঞান • ভারতবাজেটের হিসাবনিজের অঙ্কে পরিকল্পনা করুন।
বিশেষ নজরঅর্থ ও সংসারডিজিটাল জীবনশিক্ষা ও কাজপড়ার তালিকা

পুরো পত্রিকায় খুঁজুন

স্বাস্থ্য ও যত্ন

বাজার থেকে বেঁচে যাওয়া খাবার: নিরাপত্তা বজায় রাখুন

বাজার থেকে আবার গরম করা পর্যন্ত পুরো পথের উপর খাবারের নিরাপত্তা নির্ভর করে। আলাদা রাখা, দ্রুত ঠান্ডা, ভাত সংরক্ষণ ও জলের ব্যবস্থা বুঝলে অপচয় কমানো যায়। স্বাভাবিক গন্ধ, ফুটানো বা গরম করা সব সমস্যা সারাবে এমন ধারণা এড়ানো দরকার।

অন্য ভাষায় পড়ুন
বাটিতে সবজি ও ডাল
বিষয় বোঝানোর জন্য ব্যবহৃত ছবি · Unsplash · কৃতজ্ঞতা ও স্বীকৃতি
এই লেখায়
  1. বাজার থেকে পাতে পুরো পথ দেখুন
  2. ঠান্ডা রাখা ও লেবেল দেখুন
  3. তৈরির সময় দূষণ আটকান
  4. উপর নয়, মাঝখান গরম দেখুন
  5. সন্ধ্যা জুড়ে ঠান্ডার অপেক্ষা নয়
  6. রান্না ভাতের জন্য স্পষ্ট নিয়ম
  7. আসল বিপদ অনুযায়ী জল ঠিক করুন
  8. কখন ফেলবেন ও কখন সাহায্য চাইবেন
  9. সূত্র ও আরও পড়ার ঠিকানা

বাজার থেকে পাতে পুরো পথ দেখুন

পরিষ্কার ব্যবহার, আলাদা রাখা, ভালো রান্না, উপযুক্ত তাপমাত্রা ও নিরাপদ জল একটি ধারাবাহিক ব্যবস্থা। একটি ভালো ধাপ পরের ভুল মুছে দেয় না। ভালো রান্না তরকারি অপরিষ্কার চামচে দূষিত বা দীর্ঘক্ষণ উষ্ণ থাকতে পারে। প্রতিটি স্থানে নতুন জীবাণুনাশক কেনার আগে সাধারণ রান্নার কাজ দেখুন। কোথায় ভুলের সুযোগ বেশি বোঝা প্রথম কাজ।

দেরি কোথায় হয় দেখুন। অন্য কাজের সময় বাজার কি মোটরসাইকেলে পড়ে থাকে? সবাই ফেরা পর্যন্ত খাবার খোলা থাকে? দুর্বল জায়গায় একটি বদল লিখুন। অল্প রান্না, সরাসরি বাড়ি ফেরা বা পরিষ্কার পরিবেশনের চামচ জটিল অব্যবহৃত তালিকার চেয়ে কাজে আসে। যিনি বাজার, রান্না ও পরিষ্কার করেন তাঁকে যুক্ত করুন। একজনের মনে রাখার উপর সব ছেড়ে দেবেন না।

এই অংশের সূত্র: [1]

ঠান্ডা রাখা ও লেবেল দেখুন

ঠান্ডা ও হিমায়িত জিনিস কেনার শেষে নিন এবং দ্রুত বাড়ি আনুন। কাঁচা মাংস, মাছ ও রস অন্য খাবার থেকে আলাদা রাখুন। মোড়ক, তারিখ ও রাখার নির্দেশ পড়ুন, খোলার পরের নিয়মসহ। বন্ধ অবস্থায় তাকে থাকা পণ্য খোলার পরে ফ্রিজ চাইতে পারে। আগের নিয়ম পরে নিজে থেকে প্রযোজ্য ধরে নেবেন না। কেনার আগে বাড়ির জায়গাও দেখুন।

পরিমাণ পরের খাবার ও সংরক্ষণের সঙ্গে মিলুক। নির্ভরযোগ্য ফ্রিজ না থাকলে বড় ছাড়ের প্যাকেটের বদলে অল্প কেনা দরকার। থার্মোমিটার সম্ভব হলে ব্যবহার করুন; সিডিসি ৪° সেলসিয়াস বা কম বলে। সংখ্যার ডায়াল নিজে তাপমাত্রার মাপ নয়। অতিরিক্ত ঠাসাঠাসিতে ঠান্ডা বাধা পায়। পুরনো উপযুক্ত জিনিস সামনে রাখুন, যাতে নতুনের পিছনে ভুলে না যায়। খোলা পণ্যের তারিখ লিখে দিন।

এই অংশের সূত্র: [2], [4]

তৈরির সময় দূষণ আটকান

রান্নার আগে এবং কাঁচা উপকরণ, শৌচাগার বা বর্জ্যের পরে সাবানজলে হাত ধুয়ে নিন। কাজের মাঝে বাসন ও স্থান পরিষ্কার করুন। কাঁচা মাংসের রস রুটি, স্যালাড ও রান্না খাবার থেকে ফ্রিজেও দূরে থাকুক। ছোট রান্নাঘরে আলাদা বোর্ড বা ভালো পরিষ্কারের ক্রম সাহায্য করে। কাঁচা খাবারের থালায় রান্না খাবার আবার রাখবেন না।

কাঁচা মুরগি ধোয়া নিয়মিত নিরাপত্তার ধাপ নয়; ছিটে দূষণ ছড়ায়। ফলসবজি নিরাপদ জলে ধুতে হবে, ঘরের ডিটারজেন্টে নয়। ভেজা মোছার কাপড় পরিষ্কার বা বদলান। রাসায়নিক খাবারের পাত্র থেকে দূরে রাখুন। আগে সরাসরি খাওয়ার জিনিস তৈরি ও ঢেকে রেখে পরে কাঁচা ধরুন, শেষে পরিষ্কার করুন। তাড়াহুড়োতেও করা যায় এমন ক্রম দরকার। অন্য রান্নাকারীকে সেটি বোঝান।

এই অংশের সূত্র: [2], [1]

উপর নয়, মাঝখান গরম দেখুন

রং ও গন্ধ দিয়ে নিরাপদ রান্না নির্ভরযোগ্যভাবে জানা যায় না। খাদ্য থার্মোমিটার মোটা অংশ ও মাঝখান দেখতে সাহায্য করে। সিডিসি মুরগি ও আবার গরম খাবারে ৭৪° সেলসিয়াস উল্লেখ করে। অন্য খাবারের চাহিদা আলাদা; সরকারি তালিকা বা পণ্যের নির্দেশ দেখুন। একই সংখ্যা সবকিছুতে দেবেন না। ব্যবহারের মধ্যে প্রোব পরিষ্কার রাখুন। মাপার পদ্ধতিও সঠিক হওয়া চাই।

মাইক্রোওয়েভে ঠান্ডা অংশ থাকতে পারে। উপযুক্ত নাড়া বা ঘোরানো, অপেক্ষার সময় ও কয়েক জায়গায় পরীক্ষা করুন। ধার দিয়ে ভাপ ওঠা মানে মাঝখান গরম নয়। যতটুকু দরকার ততটুকু গরম করুন, পুরো হাঁড়ি বারবার নয়। খারাপ সংরক্ষণের পরে গরম করলেই উদ্ধার নিশ্চিত নয়। কিছু বিপদ আবার ফুটিয়েও থাকে। রাখার ইতিহাসকে রান্নার মান থেকে আলাদা দেখুন।

এই অংশের সূত্র: [2]

সন্ধ্যা জুড়ে ঠান্ডার অপেক্ষা নয়

পচনশীল খাবার দুই ঘণ্টার বেশি বাইরে নয়; প্রায় ৩২° সেলসিয়াসের বেশি হলে এক ঘণ্টা। পরিবেশন ও অপেক্ষাও সময়ের মধ্যে পড়ে। বেশি খাবার পরিষ্কার অগভীর পাত্রে ভাগ করে দ্রুত ফ্রিজে দিন। অল্প গরম অংশ রাখা যায়। বড় হাঁড়ি পুরো ঠান্ডার অপেক্ষায় দীর্ঘ অনিরাপদ দেরি হতে পারে। রান্না শেষের সময় লিখলে পরে সিদ্ধান্ত সহজ হয়।

পাত্রে নাম ও তৈরির সময় দিন। দেরিতে ফেরা মানুষ কোন অংশ ঠান্ডা করা হয়েছে জানুন, ঢাকনা দেখে আন্দাজ নয়। সব খাবারের এক মেয়াদ নেই; খাবার ও মোড়কের নির্দিষ্ট নিয়ম মানুন। নির্ভরযোগ্য ঠান্ডা ও রাখা না হলে কম রান্না এবং সময় বদলান। ফ্রিজে দিলেই আগের কয়েক ঘণ্টা মুছে যায় না। পরিবারকে একই নিয়ম জানিয়ে রাখুন।

এই অংশের সূত্র: [2]

রান্না ভাতের জন্য স্পষ্ট নিয়ম

ভাতে কিছু স্পোর রান্না সহ্য করতে পারে এবং ভুল সংরক্ষণে জীবাণু বা বিষ তৈরি হতে পারে। ফুড স্ট্যান্ডার্ডস এজেন্সি দ্রুত, আদর্শভাবে এক ঘণ্টায় ঠান্ডা, ফ্রিজে রাখা ও ২৪ ঘণ্টায় ব্যবহারের পরামর্শ দেয়। একবারের বেশি আবার গরম নয় এবং সব অংশ গরম হোক। উষ্ণ কুকার বা হাঁড়িতে রাতভর রাখা ফ্রিজ নয়। বড় পাত্রের বদলে ছোট অংশ সাহায্য করে।

পরের খাবারের ভাতেও সময় লিখুন। ইতিহাস অজানা হলে ভাজলেই নিরাপদ ভাববেন না। দোকানের ভাত আগেই গরম করা হতে পারে; কীভাবে রাখা হয়েছে জিজ্ঞাসা করে দ্রুত খান। এটি সংরক্ষণের নিয়ম, আবার গরম ভাত সবসময় বিপজ্জনক নয়। ফ্রিজ অনির্ভরযোগ্য হলে অল্প টাটকা রান্না সহজ বিকল্প। পুরনো ভাত নতুনের সঙ্গে মিশিয়ে তারিখ নতুন করবেন না। রাখা ও পরিবেশনের দায় স্পষ্ট রাখুন।

এই অংশের সূত্র: [4]

আসল বিপদ অনুযায়ী জল ঠিক করুন

সরবরাহের সমস্যায় পান, রান্না, বরফ ও দাঁত মাজার স্থানীয় নির্দেশ মানুন। জীবাণুর জন্য সিডিসি টগবগিয়ে এক মিনিট, ৬৫০০ ফুটের উপরে তিন মিনিট ফুটাতে বলে। ঠান্ডা করে পরিষ্কার ঢাকা পাত্রে রাখুন; ব্যবহৃত কাপ ডোবাবেন না। গরম পাত্র শিশুর দূরে রাখুন, জল সাবধানে সরান। বিকল্প নিরাপদ উৎস আগে জানলে সমস্যায় সিদ্ধান্ত সহজ হয়।

জ্বালানি বা বিষাক্ত রাসায়নিকের জল ফুটিয়ে বা জীবাণুমুক্ত করে নিরাপদ হয় না। অনুমোদিত অন্য সরবরাহ ও সরকারি পরামর্শ নিন। ফিল্টারের নির্দিষ্ট ক্ষমতা ও পরিচর্যা আছে; স্বচ্ছ গ্লাস প্রমাণ নয়। পরিশোধনের সঙ্গে সংরক্ষণ মেলান যাতে পরে দূষণ না হয়। অন্য রাসায়নিকের লেবেল দেখে মাত্রা অনুমান নয়। কোন পাত্র নিরাপদ এবং কোন জল খাবারে ব্যবহার নয় সবাই জানুন।

এই অংশের সূত্র: [3], [1]

কখন ফেলবেন ও কখন সাহায্য চাইবেন

নিরাপত্তা দেখতে চেখে দেখবেন না। স্বাভাবিক গন্ধ ক্ষতিকর জীবাণু বাদ দেয় না। ব্যবহারের শেষ তারিখ নিরাপত্তা ও নির্ধারিত সংরক্ষণের সঙ্গে যুক্ত। বেস্ট-বিফোর সাধারণত মানের, কিন্তু ব্যবহার ঠিক চাই। মোড়কের ক্ষতি, ছাঁচ বা অজানা তাপমাত্রা সিদ্ধান্ত বদলায়। সন্দেহের খাবার বেশি ঝুঁকির আত্মীয়কে না দিয়ে ফেলুন। অপচয় কমানোর শুরু অল্প কেনা ও ভালো রাখায়।

শিশু, গর্ভাবস্থা, বয়স্ক ও কম প্রতিরোধক্ষমতায় বিশেষ যত্ন চাই। অসুখে জলশূন্যতা দেখুন এবং গুরুতর বা দীর্ঘ লক্ষণে পরামর্শ নিন। রক্তমিশ্রিত পায়খানা, পানীয় না থাকা, বিভ্রান্তি বা তীব্র পেটব্যথায় দ্রুত মূল্যায়ন চাই। কী খেয়েছেন ও অন্য কেউ অসুস্থ কি না জানান। ঘরের তালিকা খাবারের বিষক্রিয়া নির্ণয় করে না। নিজে নাম ধরে চিকিৎসা দেরি করবেন না।

এই অংশের সূত্র: [2], [4]

পাঠকের প্রশ্ন

বড় হাঁড়ি পুরো ঠান্ডা পর্যন্ত বাইরে রাখব?

ঠান্ডা করা যেন ঘরের তাপমাত্রায় কয়েক ঘণ্টা না হয়। পরিষ্কার অগভীর পাত্রে ভাগ করে দ্রুত ফ্রিজে দিন। সিডিসি অল্প গরম অংশ রাখতে বলে, কারণ দ্রুত ঠান্ডা হয়। যন্ত্র ঠিক চলুক এবং অতিরিক্ত ভরা নয়। নিরাপদ ব্যবস্থা না হলে কম রান্না করুন, পরের দিন গরমের উপর নির্ভর নয়। সময় ও লেবেল সবাইকে একই নিয়ম মানতে সাহায্য করে।

স্বাভাবিক গন্ধ মানে বেঁচে খাবার নিরাপদ?

না। কিছু জীবাণু ও বিষ গন্ধ বা স্বাদে বোঝা যায় না। তৈরির সময়, তাপমাত্রা ও খাবারের নির্দেশ দেখুন। সন্দেহের খাবার চেখে পরীক্ষা নয়। লেবেলে অন্যরা আন্দাজ থেকে বাঁচেন। অপচয় কমানো মূল্যবান, কিন্তু ছোট পরিমাণ ও ভালো সংরক্ষণ দিয়ে শুরু করুন। অজানা নিরাপত্তার খাবার খাওয়া অপচয় সামলানোর সঠিক উপায় নয়।

ফুটালে কি জলের সব সমস্যা মেটে?

না। সঠিক ফুটানো জীবাণুর বিরুদ্ধে উপকারী, কিন্তু জ্বালানি, বিষাক্ত রাসায়নিক বা সব দূষক সরায় না। স্থানীয় নির্দেশ ও দরকারে অনুমোদিত বিকল্প মানুন। পরে পরিষ্কার ঢাকা পাত্র রাখুন। ঘরের ফিল্টারেরও সীমা আছে; কী সরায় ও কী পরিচর্যা দরকার জানুন। শুধু স্বচ্ছ চেহারাকে নিরাপত্তার প্রমাণ ভাববেন না। পরিবার একই তথ্য জানুক।

সূত্র ও আরও পড়ার ঠিকানা

  1. WHO: Five keys to safer food manual ↗
  2. CDC: Preventing food poisoning ↗
  3. CDC: How to make water safe in an emergency ↗
  4. Food Standards Agency: Home food fact checker ↗

এই সংখ্যার জন্য সূত্র যাচাই করা হয়েছে। প্রকল্পের নিয়ম, পণ্যের শর্ত ও স্থানীয় প্রয়োজন বদলাতে পারে; সিদ্ধান্তের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে মিলিয়ে নিন।

NR
লেখক

নন্দিনী রাও

সাধারণ স্বাস্থ্যজ্ঞান, যত্নের অভ্যাস এবং চিকিৎসককে করার মতো প্রশ্ন। এই লেখাগুলি রোগনির্ণয় বা চিকিৎসা নির্ধারণ করে না।

সম্পাদকীয় ছদ্মনাম · আরও পড়ুন →